The Business Standard বাংলা
কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: বাণিজ্য সচিব

কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: বাণিজ্য সচিব

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, জিএসপির সংবেদনশীল তালিকায় নেই, এমন পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতার কাঠামো চুক্তি টিকফা বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক সেদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায়, সেটি নিয়ে তারা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশের উপরে শুল্ক দিতে হয়। আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত টিকফা পরিষদের সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বাণিজ্য সচিব সাংবাদিকদের বলেন, 'তারা (মার্কিন প্রতিনিধিরা) আমাদের বলেছেন, 'যেসব পণ্য জিএসপির সেন্সেটিভ লিস্টে নেই ওই সব পণ্য এবং তাদের কাছ থেকে আমদানিকৃত কটনে তৈরি পোশাক সেখানে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা কী উপায়ে দেওয়া যায়, সেটি নিয়ে তারা কাজ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও আলাপ করবেন।' বাণিজ্য সচিব বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ তুলা আমদানি হয়। এই তুলায় তৈরি পোশাক যাতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা পায়– বৈঠকে সেকথা বলেছি। তারা নোট নিয়েছে এবং বলেছেন, উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন।' টিকফা পরিষদের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শ্রম সংস্কার নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশ ও ডিজিটাল বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে এমন নীতি, মেধা সম্পদের সুরক্ষা ও আইনের প্রয়োগ এবং কৃষি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে, শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা ও যৌথ দর-কষাকষি করতে পারাসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদল শ্রমিক ও ইউনিয়ন সংগঠকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলায় ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি ইউনিয়ন-বিরোধী বৈষম্য ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অন্যান্য অন্যায্য চর্চা প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া কারখানায় শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান আরো সহজ করার তাগিদ রয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে। বর্তমানে যে কোন কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ শ্রমিকের লিখিত সম্মতির প্রয়োজন হয়। এটি কমানোর জন্য দেশটি অনুরোধ জানিয়েছে বলে জানান সচিব।
Published on: 2023-09-20 14:46:10.825112 +0200 CEST