The Business Standard বাংলা
বাংলাদেশে আজ ভোটগ্রহণ

বাংলাদেশে আজ ভোটগ্রহণ

আজ রোববার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। বিএনপিসহ আরও বেশকিছু বিরোধী দলের– এই নির্বাচন বর্জন ও বিরোধিতার মধ্যেই – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চারবারের ন্যায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। নির্বাচন বর্জন করা বিরোধী দলগুলো ভোটের দিন হরতাল ডেকেছে, এবং জনগণকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এই অবস্থায়, ভোটের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে – দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। *বিএনপি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে!* নানান দিক থেকেই অভূতপূর্ব এবারের নির্বাচন, যেমন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আগে কখনোই এতোটা বৈদেশিক চাপের মুখে পড়েনি বাংলাদেশ। এরআগে পশ্চিমা শক্তিগুলোর থেকে এতোটা সমর্থনও পায়নি বিএনপি, বা কোনো বিরোধী দল; কিন্তু তবুও তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিজস্ব দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য এই নির্বাচনের বিরোধিতায় নেমে সাংগঠনিকভাবে শক্তিসামর্থ্য হারানো বিএনপি দেশের রাজনীতিতে নিজদেরই অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশের সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়া, এবং এটিকে কেন্দ্র করে বিরাজমান উত্তেজনা নিয়ে একটি মতামত প্রকাশিত হয়েছে। "বাংলাদেশ শোজ লিমিটস অব বাইডেনস ডেমোক্রেসি প্রমোশন" বা "বাইডেনের গণতন্ত্র প্রচারের সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ" শীর্ষক ওই নিবন্ধে বলা হয়, "মি. বাইডেন এর মূল্যবোধ-কেন্দ্রিক গণতন্ত্র (প্রতিষ্ঠার) আদর্শ পরীক্ষাগার হওয়ায়– বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা লক্ষ করবার মতোন। বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ জনসংখ্যার দেশটি নিঃসন্দেহে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জায়গায় ওয়াশিংটনের পক্ষে গণতন্ত্র প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতোন অপরিহার্য নয়।" বৈশ্বিক নির্বাচনের বিচারেও ঐতিহাসিক এ বছর। কারণ, বাংলাদেশের পরে এবছরে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ– ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ৬০টির বেশি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব দেশে বসবাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক বা প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ। *পরাশক্তিদের নজরে এবারের নির্বাচন* বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রতি এবার বিশ্বের পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে। যেমন বাংলাদেশের "গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধাদানকারীদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ" দেওয়া হবে জানিয়ে গেল বছরের মে মাসে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া বিশ্বসংস্থাটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘ আশা করছে, নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভোটের আগের দিন গতকাল শনিবার একই কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। *বিএনপি ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি* কিন্তু, এসব মানতে নারাজ বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এসব দল একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এই অবস্থায়, প্রধান বিরোধী দল ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না থাকায়– নিরঙ্কুশ জয়ের আশা রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। *স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমীকরণ* তবে নির্বাচনী উত্তাপ, উত্তেজনা থেকে একেবারে বঞ্চিত নয় এবারের নির্বাচন। দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন বিষয় হিসেবে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী আসনে নিজ দলেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এবার ৮০ থেকে ১০০টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হাড্ডাহাডি লড়াই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা ২৬৬ আসনে নৌকা প্রতীকে লড়বেন। আর আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি আসনে এবং ১৪ দলীয় শরিক আরও ৬ আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ১৪ দলীয় শরিকদের মধ্যে জাসদ ছাড় পেয়েছে তিনটি আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি আসনে এবং জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) একটি আসনে ছাড় পেয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে, ২৬৫টি আসনে জাতীয় পার্টির আনুষ্ঠানিক মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে, ২৬ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টির বেশকিছু প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়া ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে– ১৬টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, যাদের নিবন্ধিত মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি। ৩০০ আসনে নির্বাচন হলেও– একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় নওগাঁ-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। খুব শিগগিরই এ আসনের নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে। এদিকে নির্বাচনের আগে শুক্রবার রাতে, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনাসহ সিরিজ অগ্নিসংযোগের পরে দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুনে চারজন মারা গেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারাদেশে ১৬ ঘণ্টায় মোট ১৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘনের ঘটনা নজরদারিতে রাখতে দেশব্যাপী ৮ লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
Published on: 2024-01-07 03:17:43.785797 +0100 CET