The Business Standard বাংলা
বইয়ের প্রেসক্রিপশন

বইয়ের প্রেসক্রিপশন

তলস্তয় বলেছেন, শেখভ শেক্সপিয়ারের চেয়েও বাজে লেখক। তলস্তয় তখন বাথটাবে শরীর ডুবিয়ে শাদা দাড়ি উঁচিয়ে শেখভের সাথে কথা বলছেন। বললেন, তুমি তো জানো তোমার নাটক আমি খুব অপছন্দ করি। শেক্সপিয়ার একজন বাজে লেখক। তোমার নাটকগুলো তার লেখার চেয়ে বাজে। তলস্তয়ের পছন্দ চার্লস ডিফেন্স। ডিকেন্সের 'লিটল ডোরিট ও পিকউইক পেপার্স' পড়ে তার মনে হলো ডিকেন্সের সাথে তুলনা করার মতো কোনো ইংরেজ লেখক নেই। বই দুটো পড়ে তিনি তার নোট বইয়ে লিখলেন: ক. একজন লেখকের জনপ্রিয়তার প্রথম শর্ত হচ্ছে ভালোবাসা, জনগণ যাতে তাকে পছন্দ করেন। তার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে যে ভালোবাসা দিয়ে তিনি চরিত্রগুলোকে সৃষ্টি করেন, সেই ভালোবাসা। খ. লেখক যখন তার বিষয়ের বাইরে এসে দাঁড়ান, সেটাই ভালো যাতে পাঠক তাকে অবিরাম সন্দেহ করে যেতে পারেন, তার সৃষ্টি কি কল্পনাপ্রসূত না বস্তুনিষ্ঠ। বিভিন্ন বয়সে তলস্তয় তার পছন্দের ২৫টি বইয়ের একটি তালিকা তৈরি করে পাশে তার মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্য লিখেছেন: পাওয়ারফুল, গ্রেট এবং ভেরি গ্রেট। তার তালিকা থেকে ভেরি গ্রেট ১০টি বইয়ের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে: ইলিয়াড (হোমার), অডেসি (হোমার), ফেডো অ্যান্ড সিম্পোজিয়াম (প্ল্যাটো), হারমান অ্যান্ড ডরোথিয়া (গ্যাটে), ইউজিন ওনেজিন (পুশকিন), দ্য রবার্স (শিলার), নোভেল হেলাইস (রুশো), সেন্টিমেন্টাল জার্নি (লরেন্স স্টার্ন), মেময়ার্স অব অ্য স্পোর্টসম্যান (তুর্গেনিভ), হিরো অব আওয়ার টাইমস (লারমনটোভ)। তিনি যতো ভালো লেখকই হোন না কেন, রবীন্দ্রনাথের মুখ দিয়ে তলস্তয়ের বই নিয়ে প্রশংসাবাক্য বেরোয়নি। বরং আন্না কারেনিনাকে পারেন তো বাজে বই বলেন। নিশ্চয়ই প্রিয়, নতুবা হেমিংওয়ে তরুণ স্যামুয়েলসনকে অবশ্যই পড়ার জন্য ১৬টি বইয়ের তালিকা নিজের হাতে লিখে দেবেন কেন? 'ওয়ার অ্যান্ড পিস' পড়েছেন কি না, তিনি স্যামুয়েলসনকে জিজ্ঞেস করেছেন। হেমিংওয়ের প্রেসক্রিপশনের সেই ১৪ বই: আন্না কারেনিনা: লেভ তলস্তয় ওয়ার অ্যান্ড পিস: লেভ তলস্তয় দ্য ব্লু হোটেল: স্টিফেন ক্রেইন দ্য ওপেন বোট: স্টিফেন ক্রেইন মাদাম বোভারি: গুস্তাভ ফ্লবেয়র ডাবলিনার্স: জেমস জয়েস দ্য রেড অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক: স্তাদাল অব হিউম্যান বন্ডেজ: সমারসেট মম বাডেনব্রুকস: টমাস মান হেইল অ্যান্ড ফেয়ারওয়েল: জর্জ মুর ব্রাদার্স কারামাজভ: ফিউদর দস্তয়েভস্কি দ্য অ্যনরমাস রুম: ই ই কামিংস ওদারিং হাইটস: এমিলি ব্রন্ট্রি ফার অ্যাওয়ে অ্যান্ড লন্ড এগো: ডব্লিউ এইচ হাডসন দ্য আমেরিকান: হেনরি জেমস দ্য অক্সফোর্ড বুক অব ইংলিশ ভার্স দিনে এক ডলার বেতনে তার বোটে ঘুমোবার এবং নৌকাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চাকরি দেন আর্নল্ড স্যামুয়েলসনকে। হেমিংওয়ের স্মৃতি নিয়ে তার বই 'অ্যা ইয়ার ইন কি ওয়েস্ট অ্যান্ড কিউবা'। স্কট ফিটজেরাল্ডের তালিকাটির শিরোনাম রয়েছে 'এসেনশিয়াল বুকস'। তিনি বাইশটি বই অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার তালিকায়। তাতে তলস্তয় আছেন, মার্সেল প্রুস্ত-এর তিনটি বই আছে। মিস্টার কেরি: থিওডোর ড্রাইসার দ্য লাইফ অব জেসাস: আর্নেস্ট রেনান আ ডলস হাউস: হেনরিক ইবসেন ওয়াইনসবার্গ, ওয়াহিও: শেরউড অ্যান্ডারসন দ্য ওল্ড ওয়াইডসটেল: আর্নল্ড বেনেট দ্য ম্যালটিস ফ্যালকন: ড্যাশিয়েল হ্যামেট দ্য রেড অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক: স্তাদাল ভিক্টরি: জোসেফ কনরাড দ্য বেস্ট আমেরিকান হিউমারাস স্টোরি দ্য রিভোল্ট অব দ্য অ্যাঞ্জেলস: আনাতোল ফ্রঁসে দ্য প্লেস অব অস্কার ওয়াইল্ড সাঙ্কুচুয়ারি: উইলিয়াম ফকনার উইদিন অ্যা বাডি গ্রোভ: মার্শেল প্রুস্ত মোয়ার্নসওয়ে: মার্শেল প্রুস্ত দ্য গার্মেন্টেস: মার্শেল প্রুস্ত সাউথ উইল্ড: নরমান ডগলাস দ্য গার্ডেন পার্টি: ক্যাথেরিন ম্যালসফিল্ড ওয়ার অ্যান্ড পিস: লেভ তলস্তয় দ্য স্টোরিজ অব আন্তন শেখভ দ্য শর্ট স্টোরিজ অব গি দ্য মোপাসা কমপ্লিট পোয়েটিকাল ওয়ার্কস জন কিটস, কমপ্লিট পোয়েটিক্যাল ওয়ার্কস, শেলি অ্যান আউটলাইন অব অ্যাবনরমাল সাইকোলজি: গার্ডনার মারফি সম্পাদিত ২০১০ সালের নোবেল লরিয়েট মারিয়ো বার্গাস ইয়েসো তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন গুস্তাভ ফ্লবেয়র (মাদাম  বোভারিখ্যাত) তাকে শিখিয়েছেন অনমনীয় শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ মেয়াদে লেগে থাকার ধৈর্য, উইলিয়াম ফকনার শিখিয়েছেন লেখার ধরন ও লেখার কাঠামো। মার্তোবেল, সার্ভেন্তেস, তলস্তয়, ডিকেন্স, বালজাক, কনরাড ও টোমাস মান শিখিয়েছেন লেখার শৈলী, বর্ণনার নৈপুণ্য ও কৌশল, লেখার ব্যাপ্তি ও গভীরতা। সার্ত্রে শিখিয়েছেন শব্দের গুরুত্ব, আলবেয়ার কামু ও জর্জ অরওয়েলের কাছ থেকে  তিনি শিখেছেন নৈতিকতা। তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন ভিক্টর হুগোর লা মিজারেবল; পড়েছেন উইলিয়াম ফকনার, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, স্কট ফিটজেরাল্ড ও জন ডস প্যাসোসের উপন্যাস। গোগ্রাসে পড়েছেন হারমান মেলভিন, চার্লস ডিকেন্স, ন্যাথানিয়েল হথর্ন, স্তাদাল, মায়াকোভস্কি ও বালজাক; মার্কেসের প্রায় সব লেখা (যদিও দুজনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়)। ২০০৬ সালের নোবেল লরিয়েট ওরহান পামুক ২০১২-তে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সানডে বুক রিভিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তার বেডরুমের সাইড টেবিলে রয়েছে ফেরদৌসির 'শাহনামা'। এই বইটির একটি উপশিরোনাম রয়েছে: দ্য পার্শিয়ান বুক অব কিংস। এটি একটি পেঙ্গুইন ক্ল্যাসিক। রুমির 'মসনভি'-এর সনাতন আরব্য রজনীও তার প্রিয়। ওরহান পামুকের পড়া তিনটি শ্রেষ্ঠ মহান গ্রন্থ (গ্রেট বুকস) হচ্ছে: তলস্তয়ের আন্না কারেনিনা, দস্তয়েভস্কির ব্রাদার্স কারামাজোভ এবং টোমাস মানের ম্যাজিক মাউন্টেইন। জুলিয়ান বার্নস-এর দ্য সেন্স অব অ্যান এনডিং তার কাছে খুব কৌতুকপ্রবণ এবং মজার মনে হয়েছে। অ্যাডাম হকশিল্ডের কিং লিউপোল্ডস ঘোস্ট পড়ে তিনি মূল চরিত্র বেলজিয়ান রাজা লিউপোল্ডের উপর ভীষণ ক্ষেপেছেন। যদি ওরহান পামুককে নির্বাসন দেওয়া হয় এবং কেবল ৩টি বই সাথে নেবার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে ওরহান পামুকের পছন্দ: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার ১৯১১ সংস্করণ, এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এর প্রথম সংস্করণ এবং এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইস্তাম্বুল। তিনি নিজে লেখক হিসেবে তলস্তয়ের অনুশাসন মেনে চলেন: চরিত্রটি যদি খারাপ হয়, তাহলে তাকে ভালো বানাও। বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক: একবিংশ শতকের একজন বিশ্বনন্দিত বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। বিদ্বান ও পাঠক হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত একজন মানুষ। পাঠকের জন্য তার পরামর্শের কিছু বই: ওয়াল্টাস আইজাকসনের আইনস্টাইন: হিজ লাইফ অ্যান্ড ইউনিভার্স; স্যামুয়েল বেকেটের ওয়েটিং ফর গদো, জে আর আর টলকিনের লর্ড অব দ্য রিংস। তিনি বলেছেন, আইজাক আসিমভ তার কাছে সর্বকালের সেরা আর সেরা বই হচ্ছে আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজের গ্রন্থগুলো। রবার্ট হেনলিনের দ্য মুন ইজ অ্যা হার্শ মিস্ট্রেস এবং স্ট্রেঞ্জার অন অ্যা স্ট্রেঞ্জ ল্যান্ড তার খুব প্রিয়। জে ই গর্ডনের লেখা স্ট্রাকচার্স অব হোয়াই থিঙ্কস ডোন্ট ফল ডাউন তার অতিপ্রিয় একটি বই। ওয়াল্টার আইজাকসনের বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন: অ্যান আমেরিকান লাইফ তিনি অন্যদেরও পড়তে বলেন। সবার জন্য এলন মাস্কের বই ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে আরো রয়েছে : নিক বস্ট্রমের সুপার ইন্টেলিজেন্স: পাথস, ডেঞ্জার্স, স্ট্রাটেজিস (ইলন মাস্ক বলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে ভয়ংকর, প্রস্তুতি নিতে হলে এই বই পড়তে হবে।) ১৪-১৫ বছর বয়সে এলন মাস্ক অস্তিত্ব সংকটে ভুগছিলেন। সে সময় তাদের বাড়িতে ছিল নিৎসে শোপেনহাওয়ার প্রমুখ দার্শনিকের বই, সে বয়সে এই বই পড়া হাস্যকর হবে, তিনি পড়তে শুরু করলেন ডগলাস অ্যাডামসের লেখা হিচহাইকার্স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি। তার মনে হলো তিনি পথের দিশা পেয়ে গেছেন। তিনি আরও কিছু বই পড়তে পরামর্শ দিয়েছেন: ডোনাল্ড বার্টনেট ও জেমস স্টিল-এর লেখা হাওয়ার্ড হিউজেস, হিজ লাইফ অ্যান্ড ম্যাডনেস: পিটার থিলের লেখা 'জিরো টু ওয়ান: নোটস অন স্টার্টআপস অব হাউ টু বিল্ড দ্য ফিউচার; ফ্রাঙ্ক হার্বার্টের ডিউন, রবার্ট ম্যাসির ক্যাথরিন দ্য গ্রেট:  পোট্রেট অব অ্য ওমেন, জন ডি ক্লার্কের ইগনিশন: অ্যান ইনফর্মাল হিস্ট্রি অব লিকুইড রকেট প্রপেল্যান্টস; নাওমি ওরেস্কেস ও এরিক কনওয়ের লেখা মার্চেন্টস অব ডাউট। ইলন মাস্ক ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত অ্যাডাম স্মিথের অর্থনীতির বিখ্যাত বই দ্য ওয়েলথ অব নেশনস পড়তেও পরামর্শ নিয়েছেন। জন গ্রিনের উপন্যাস দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টার্সও তার প্রিয় একটি বই। ফিদেল ক্যাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারা দুজনেরই প্রিয় উপন্যাস হেমিংওয়ের ফর হুম দ্য বেল টোলস। চের প্রিয় বইয়ের তালিকায় রয়েছে এমিল জোলার দ্য বিস্ট উইদিন, এডওয়ার্ড গিবনের দ্য হিস্ট্রি অব দ্য ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অব দ্য রোমান এম্পায়ার, কুর্জিও মালাপার্ডের দ্য স্কিন। ওয়ারেন বাফেট কিছু সময় আগেও পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে অনাড়ম্বর এই মানুষটি অত্যন্ত সিরিয়াসধর্মী পাঠকদের একজন। তিনি প্রতিদিন ৫০০ পৃষ্ঠা পড়ার পরামর্শ দেন। তিনি শিগগিরই যেসব বই পড়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. পুত্তর চার্লিস অ্যালমানাক: দ্য উইট অ্যান্ড উইজডম অব চার্লস টি মুঙ্গার: সম্পাদক পিটার কাউফম্যান। ২. দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর: বেঞ্জামিন গ্রাহাম ৩.  মিসটেক-আ গ্লোবাল সাকসেস স্টোরি ১৮৮১-২০১১: জিম হিলি ৪. দ্য ক্লাশ অব দ্য কালচার: ইনভেস্টমেন্ট ভার্সাস স্পেকুলেশন: জন সি বোগল ৫. ফাস্ট চাঞ্চেস: ফাইল্ডিং হোপ ইন হাঙ্গরি ওয়ার্ল্ড: হাওয়ার্ড জি বাফেট এবং হাওয়ার্ড ডব্লিউ বাফেট। ৬. লিম্পিং অন ওয়াটার: ফিল বেউথ ও কে সি শুলবার্গ ৭. শু ডগ: ফিল নাইট। বিলিয়নিয়ার বিল গেটস আরও সিরিয়াস পাঠক। তিনি ৯৯টি বইয়ের তালিকা দিয়েছেনÑএগুলো একালের পাঠককে পড়তে হবে। তার তালিকা থেকে কতগুলো বই: ১.  সেপিয়েন্স: ইয়োভাল নোয়া হারারি ২. দ্য র‌্যাশনাল অপটিমিস্ট: ম্যাট রিডলে ৩. দ্য মোমেন্ট অব লিফট: মেলিন্দা গেটস ৪. হোয়াই উই স্লিপ: ম্যাথু ওয়াকার ৫. ব্যান্ড ব্লাড: জন কেরিরাও ৬. রেঞ্জ: হোয়াই জেনারেলিস্টস ট্রাম্প ইন অ্যা স্পেশালাইজড ওয়ার্ল্ড: ডেভিড এপস্টেন ৭. দ্য বক্স: মার্ক লেভিনসন ৮. দ্য ফিউচার অব ক্যাপিটালিজম: পন কলিয়ার ৯. হোয়াই ন্যাশনস ফল: ড্যারন এসমগলু ১০. দ্য জিন: সিদ্ধার্থ মুখার্জি ১১. ক্যাপিটাল ইন দ্য টুয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি: টমাস পিকেটি ১২. মুনওয়াক উইথ আইনস্টাইন: যশুয়া ফোয়ের ১৩. ব্রিদ ফ্রম সল্ট: বিজল ত্রিবেদী ১৪. গুড ইকোনমিকস ব্যাড ইকোনমিকস: অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এসথার ডুফ্লো। *হর্হে লুই বোর্হেস:* আরব্য উপন্যাস-হাজার এক রাত্রির গল্প ছাড়া আর যেসব বইয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন, সেগুলো হচ্ছে: হুলিও কোর্তাসারের স্টোরিজ; ফ্রাঞ্জ কাফকার আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কমপ্লিট স্টোরিজ; মরিস মেটারলিঙ্কের দ্য ইন্টেলিজেন্স অব ফ্লাওয়ার; আদ্রে জিদের দ্য কাউন্টারফিটার্স; ফিওদর দস্তয়েভস্কির ডেমনস; জোসেফ কনরাডের হার্ট অব ডার্কনেস; হারমান হেসের দ্য গ্লাস বিড গেম; মার্কোপলোর দ্য ট্র্যাভেলস; গুস্তাভ ফ্লবেয়রের দ্য টেম্পটেশন অব সেইন্ট অ্যান্থনি; সোরেন কিয়ের্কেগার্দের ফিয়ার অ্যান্ড ট্রি¦ম্বলিং; হুয়ান রুলফোর পেদ্রো পারামো; ভগবদ গীতা, এপিক অব গিলগামেশ, ভার্জিলের ইনিড; ড্যানিয়েল ডেফোর মল ফ্ল্যান্ডার্স; দ্য নাইন বুকস অব হিস্টি অব হেরোডোটাস। *একালের জনপ্রিয় লেখক হারুকি মুরাকামির প্রিয় পাঁচটি উপন্যাস হচ্ছে:* স্কট ফিটজেরাল্ডের দ্য গ্রেট গ্যাটসবি; রেয়মন্ড শ্যান্ডলারের দ্য লঙ গুডবাই; ফ্রাঞ্জ কাফকার দ্য ক্যাসল; ফিওদর দস্তয়েভস্কির ব্রাদার্স কারামাজোভ এবং জে ডি স্যালিঙ্গারের দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই। বিংশ শতকের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছেন ভ্লাদিমিরি ইলিচ লেনিন। তিনি নিজে প্রচুর লিখেছেন এবং রুশ প্রজন্ম ও সমসাময়িক অন্যান্য দেশের মুক্তিকামীদের কোন বই পড়তে হবে, তার ব্যবস্থাপনাও দিয়েছেন। সেই তালিকা থেকে প্রধান সাতটি বইয়ের মধ্যে লেনিন নিজের তিনটি বইকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন: ১. দ্য কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো: কার্ল মার্ক্স ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ২. ক্যাপিটাল: কার্ল মার্ক্স ৩. হোয়াট ইজ টু বি ডান: ভ্লাদিমিরি লেনিন ৪. দ্য স্টেট অ্যান্ড রেভল্যুশন: ভ্লাদিমিরি লেনিন ৫. ইম্পেরিয়ালিজম দ্য হাইয়েস্ট স্টেজ অব ক্যাপিটালিজ: ভ্লাদিমিরি লেনিন ৬. ক্রাইম অ্যান্ড পালিশমেন্ট: ফিওদর দস্তয়েভস্কি ৭. ওয়ার অ্যান্ড পিস: লেভ তলস্তয়। লেনিনের নিজের তিনটি বই বিপ্লবী সামাজিক আন্দোলন, পুঁজিবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি ও মার্ক্সীয় অর্থনীতির ব্যাখ্যা দেয় এবং সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক গতিবিধির পর্যালোচনা উপস্থাপন করে। লেনিন বিশ্বাস করতেন সাহিত্য রাজনীতি ও দর্শনের জ্ঞান শোষণমুক্ত সাম্যবাদী সমাজগঠনের জন্য জরুরি প্রয়োজন। লেনিন গ্রিক ভাষার একান্ত অনুরক্ত ছিলেন। মূল ভাষাতে পড়েছেন ভার্জিল, ওভিদ, হোরেস এবং জুভেনাল, জার্মান গ্যাটের ফাউস্ট পড়েছেন অনেকবার। ইভান গনচারভ, ফিওদর দস্তয়েভস্কি, লেভ তলস্তয় ছিল তার প্রিয় পাঠ। জন এফ কেনেডি বিভিন্ন সময় তার প্রিয় ১৮টি বইয়ের কথা জানিয়েছেন: দ্য ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অব দ্য রোমান এম্পায়ার: এডওয়ার্ড গিবন দ্য গালস অব অগাস্ট: বারবারা টুম্পমান মার্লবরো: হিজলাইফ অ্যান্ড টাইমস: উইনস্টন চার্চিল (২য় খণ্ড) দ্য রেড অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক: স্তাদাল ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ: আয়ান ফ্লেমিং (জেমস বন্ড সিরিজের বই) দ্য এমার্জেন্স অব লিঙ্কন: ডগলাস বুকা নন অ্যান্ড পার্টি ক্যায়োস দ্য এমার্জেন্স অব লিঙ্কন নেভিনস এলান জন কুইন্সি অ্যাডামস অ্যান্ড দ্য ইউনিয়ন: স্যামুয়েল বেসিস জন সি কলহুন: আমেরিকান পোর্ট্রেট: মার্গারেট কোয়েট টেলিব্যান্ড: ডাফ কুপার বায়রন ইন ইটালি: পিটার কুইনেল আদ্রে মালরো: ফ্রাসোয়া দ্য সেইন্ট শেরন ব্যাটল অ্যান্ড দ্য লিডার্স অব দ্য সিভিল ওয়ার: রবার্ট জনসন যেকোনো প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে ওষুধ খাবেন না, জীবন বিপন্ন হতে পারে; কিন্তু প্রেসক্রিপশন যদি বইয়ের হয়, সানন্দে পড়তে থাকুন,  ক্ষতির সামান্য সম্ভাবনাও নেই, মঙ্গলই হবে।
Published on: 2024-02-11 18:56:25.342666 +0100 CET