The Business Standard বাংলা
টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য ঘোষণা করল সরকার

টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য ঘোষণা করল সরকার

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে 'টাঙ্গাইল শাড়ি'-কে স্বীকৃতি দিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)। আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি পেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্পনকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাঠান। বুধবার মন্ত্রণালয়ে এর হার্ড কপি জমা দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে পেটেন্ট, শিল্পনকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর এই স্বীকৃতি দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিখ্যাত 'টাঙ্গাইল শাড়ি'কে নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। ভারতের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলে, '‌টাঙ্গাইল শাড়ি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত। এটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস। এর মিহি গঠন, বৈচিত্র্যময় রং এবং সূক্ষ্ম জামদানি মোটিফের জন্য বিখ্যাত। এটি এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।' এরপর শুক্রবার থেকে বাংলাদেশের নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাঁদের অনেকেই কমেন্ট করে জানান, বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলা থেকেই টাঙ্গাইল শাড়ির নামটি এসেছে। অন্যরা লিখেন, ভারতের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় হয়তো শাড়ির নাম ভুল লিখেছে। এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই (ভৌগলিক নির্দেশক) পেটেন্ট পেতে জরুরি-ভিত্তিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীর মতিঝিলে পাট অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন,  "বাংলাদেশের টাঙ্গাইল শাড়ির পেটেন্ট পেতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ে আমরা জরুরিভাবে এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মিটিং করে নির্দেশনা দিয়েছি।" বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে জিআই পণ্য। তাই কোনো একটি পণ্যকে এর তালিকাভুক্ত করতে মুখিয়ে থাকে দেশগুলো। কিন্তু জটিলতা বাঁধে যখন একই পণ্যকে একাধিক দেশ নিজেদের বলে দাবি করে। এমনটাই ঘটেছে টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে। শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে (ডাব্লিউআইপিও) সমস্যাটি সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। সেখানে যাওয়ার আগে নিজেদেরকে পণ্যটিকে আগে জিআই হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায়, শিল্প মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিল। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ছাড়াও মধুপুরের আনারস, নরসিংদীর লটকন, সাগর কলা; ভোলার মহিষের কাঁচা দুধের দই ইত্যাদিসহ জিআই পণ্যের স্বীকৃতির জন্য যে সকল আবেদন অনিষ্পন্ন আছে- তা দ্রুত সম্পাদন করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২১টি পণ্যকে জিআই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে এক বা একাধিক পণ্য বা বস্তু খুঁজে বের করে আবেদন করার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির পর শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে এগুলোকে ব্র্যান্ডিংয়ের এর উদ্যোগ নেয়া হবে। টাঙ্গাইল শাড়ির রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস, এটি বাংলাদেশের প্রাচীন কুটির শিল্পের অন্যতম প্রতিনিধিত্বমূলক পণ্য। ব্রিটিশ আমলেও এর অস্তিত্বের নিদর্শন পাওয়া যায়। উনিশ শতকের শেষের দিকে এর ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে। বাংলাদেশের একাধিক সম্প্রদায় টাঙ্গাইল শাড়ি উৎপাদন করে, তাদের মধ্যে টাঙ্গাইলের পাথরাইলের বসাক সম্প্রদায় প্রাচীনতম। দেশভাগ ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক তাঁত কারিগর ভারতে পাড়ি জমান। তারা পশ্চিমবঙ্গে বসতি স্থাপন করেছিলেন, এরপর তারা সেখানে এই শাড়িকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
Published on: 2024-02-07 16:11:19.728514 +0100 CET