The Business Standard বাংলা
বান্দরবানে ব্যাংক লুট, কর্মকর্তা অপহরণের ঘটনায় রুমা ও থানচিতে ৫ মামলা

বান্দরবানে ব্যাংক লুট, কর্মকর্তা অপহরণের ঘটনায় রুমা ও থানচিতে ৫ মামলা

বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ব্যাংকের টাকা, অস্ত্র লুট এবং ম্যানেজারকে অপহরণের ঘটনায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে রুমায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং থানচিতে দুটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫ টায় বান্দরবানের অ্যাডিশনাল এসপি (ক্রাইম) আব্দুল করিম টিবিএসকে বলেন, "ব্যাংকের টাকা ও অস্ত্র লুট, ম্যানেজারকে অপহরণ এবং হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রুমায় তিনটি ও থানচিতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া, আলীকদমে আরো একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।" এ বিষয়ে থানচি থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, "রুমা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার লাচি থোয়াই মারমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারকেও মামলা করতে থানায় আসতে বলা হয়েছে।" এদিকে, দুটি ব্যাংকে হামলা, অস্ত্র লুট, অপহরণ ও গোলাগুলির ঘটনার পর বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলা সদরের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। থানচি ও রুমা বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন অনেক নারী ও শিশু। থানচি উপজেলা সদরের ইউপি চেয়ারম্যান অং প্র মোরং বলেন, "দুই দিন সশস্ত্র হামলা ও গোলাগুলির ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেক মানুষ বিশেষ করে নারী-শিশুরা এলাকা ছেড়ে বান্দরবান শহরে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন পরিচিতজনের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।" থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন টিবিএস কে বলেন, "থানচি এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও পুলিশের সতর্ক পাহারা রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।" তারপরও শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন থানচি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বাজারে প্রায় আড়াশ দোকান থাকলেও শুক্রবার খোলা ছিল মাত্র ১৫-২০ টি। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মাত্র যোগদান করা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, "উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সামরিক বাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তত আছে প্রশাসন।" রুমা উপজেলা সদর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি অঞ্জন বড়ুয়া টিবিএসকে বলেন, গতকাল হাটবার থাকায় উপজেলা সদরে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। আজও দোকানপাট সব খোলা আছে। পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। তবে রাত হলেই আতঙ্ক বিরাজ করে পুরো এলাকায়। তিনি বলেন, পুরো এলাকাকে নিরাপত্তা চাদের ঢেকে রেখেছ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারপরও চাপা আতঙ্ক কাজ করছে সবার মনে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "গুমট পরিস্থিতির কারণে মানুষজন খুব বেশি জরুরী না হলে ঘর থেকে তেমন একটা বের হচ্ছে না। দোকানপাট সব খোলা থাকলেও তাই বেচাকেনা তেমন একটা নেই।" এদিকে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হান কাজেমী জানিয়েছেন, বান্দরবানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি থানায় একজন করে সহকারী পুলিশ সুপারকে (এসপি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, "গোলাগুলির পর থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত আরও ১০০ পুলিশ সদস্য থানায় আসছেন।" লোকজনের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রুমা সোনালী ব্যাংকে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র লুটপাট করে। ভল্টের টাকা নিতে না পেরে ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। এর পরের দিন থানচি বাজারের সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় কৃষি ব্যাংক থেকে ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং সোনালী ব্যাংক থেকে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাতে রুমা থেকে সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে র‌্যাব। কিন্তু এ ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যে আবারও থানচি বাজার ও থানায় হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে অন্তত ৫০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। ওইদিন মধ্যরাতে বান্দরবানের আলীকদম ২৬ মাইল এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি চেকপোস্টেও গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ইস্যু নিয়ে শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, "বান্দরবান জেলায় বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠন রয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব, উত্তরসূরীদের অনুপ্রেরণা ও বিশ্বে তাদের সহযোগীদের সক্ষমতা জানান দিতেই এ ঘটনাটি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সশস্ত্র সদস্যরা ঘটিয়েছে।"
Published on: 2024-04-05 14:49:13.664564 +0200 CEST